আশআরী রিজালের সিলসিলা: ০১
কুদস বিজেতা গাজী সুলতান সালাহুদ্দীন আইউবী রহ. (৫৮৯ হি.): আকীদাগত অবস্থান
গাজী সুলতান সালাহুদ্দীন আইউবী রহ. (৫৮৯ হি.)। কুদসা বিজেতা, ইসলামী ইতিহাসের এক মহান ও সুপ্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব। আজকের এই পর্বে আমরা এই মহান ব্যক্তিত্বের আকীদা সম্পর্কে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ। মূলত তিনি মাযহাবগত দিক থেকে ছিলেন শাফেয়ী, আর আকীদায় আশআরী। এ বিষয়টি অত্যন্ত সুপ্রসিদ্ধ থাকলেও আমাদের কিছু সালাফী ভাই তাতে সন্দেহ তৈরির চেষ্টা করে থাকেন। তাদের উদ্দে্যশ্যেই মূলত আজকের এই অবতারণা।
সালাহুদ্দীন আইউবী রহ. এর আশআরী হওয়ার বিষয়টি ঐতিহাসিক প্রমাণাদি ও মান্যবর ইমামগণের স্বিকৃতী দ্বারা সাব্যস্ত। এমনকি সমকালীন প্রসিদ্ধ সালাফী আলেমরাও এটা অকপটে স্বীকার করে থাকেন। নিম্নে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।
১. ঐতিহাসিক প্রমাণ:
১.১. পরিবারে আশআরী আকীদা শিক্ষা দান।
কাযী বাহাউদ্দীন ইবনু শাদ্দাদ রহ. (৬৩২ হি.) [১] বলেন,
وكان قد جمع له الشيخ قطب الدين النيسابوري عقيدة تجمع جميع ما يحتاج إليه في هذا الباب ، وكان من شدة حرصه عليها يعلمها الصغار من أولاده حتى ترسخ في أذهانهم في الصغر، ورأيته وهو يأخذها عليهم وهم يلقونها مِن حِفظِهم بين يديه
“আর শায়খ কুতুবুদ্দীন নাইসাবূরী তাঁর জন্য একটি আকীদা বিষয়ক রিসালা সংকলন করেন, যা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমস্ত বিষয়কে একত্রিত করেছিল। আর এই রিসালার প্রতি তাঁর তীব্র আগ্রহ ও যত্নের কারণে সালাহুদ্দীন আইউবী তাঁর ছোট সন্তানদের তা শিক্ষা দিতেন, যাতে শৈশবেই তা তাদের মনে গভীরভাবে গেঁথে যায়। আর আমি তাঁকে দেখেছি যে, তিনি তাদের নিকট থেকে তা শুনছিলেন, আর তারা তাঁর সামনে মুখস্থ তা আবৃত্তি করছিল।”
কাযী বাহাউদ্দীন ইবনু শাদ্দাদ, আন নাওয়াদিরুস সুলতানিয়্যাহ: ৩৩
একই ঘটনা উল্লেখ করেছেন ইমাম আবূ শামাহ মাক্বদিসী রহ.। দেখুন, আখবারুত দাওলাতাইন: ২/৩৭৫
নাইসাবূরী রহ. এর এই রিসালাটি আশআরী আকীদার ওপর লিখিত ছিল। যেমনটা ইমাম মাক্বরীযির বক্তব্য থেকে সুস্পষ্ট হয়। তিনি বলে
وصار يحفّظها صغار أولاده فلذلك عقدوا الخناصر وشدّوا البنان على مذهب الأشعري
“সালাহুদ্দীন আইউবী রহ. তার ছোট ছোট সন্তানদেরকেও এই আকীদা মুখস্ত করান। ফলে তারা আশআরি মাযহাবকে অত্যন্ত সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেন।”
মাক্বরীযি, আল মাওয়াইজু ওয়াল ই’তিবার: ৪/১৯২
১.২. মসজিদে মসজিদে আশআরী আকীদা প্রচার:
আইউবী রহ. নিজে ও নিজের পরিবারেই শুধু আশআরী আকীদাকে ধারণ করেননি। বরং আম জনতাকেও তা শিক্ষা দিতে চেষ্টা করেছেন। মসজিদে মসজিদে মুআযযিনদের মাধ্যমে এই আকীদা প্রচার করেছেন।
তক্বীউদ্দীন মাক্বরীযি রহ. (৮৪৫ হি.) বলেন,
لما ولي السلطان صلاح الدين يوسف بن أيوب... تقدم الأمر إلى المؤذنين أن يعلنوا وقت التسبيح على المآذن بالليل، بذكر العقيدة التي تعرف بالمرشدة، فواظب المؤذنون على ذكرها في كل ليلة بسائر جوامع مصر إلى وقتنا هذا
“যখন সুলতান সালাহউদ্দীন ইউসুফ বিন আইয়ুব শাসনভার গ্রহণ করলেন... তখন মুয়াযযিনদের নির্দেশ দেওয়া হলো যে, তারা যেন রাতের বেলায় মিনারগুলোতে তাসবীহের সময় ‘আল-মুরশিদাহ’ নামে পরিচিত আকীদাটি ঘোষণা করেন।[২] ফলে মুয়াযযিনগণ মিসরের সমস্ত জামে মসজিদে আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রতি রাতেই তা নিয়মিত পাঠ করতে লাগলেন।”
আল মাওয়াইযু ওয়াল ই’তিবার: ৪/৫১
ইমাম সুয়ূতী রহ. (৯১১ হি.) বলেন,
فلما ولي صلاح الدين بن أيوب أمر المؤذنين في وقت التسبيح أن يعلنوا بذكر العقيدة الأشعرية، فوظّف المؤذنين على ذكرها كل ليلة.
“সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবী মুয়াজ্জিনদেরকে তাসবীহের সময় (ফযরের আগে) আশআরী আকিদা পাঠ করে ঘোষণা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ফলে তিনি প্রতি রাতে তা পাঠ করার জন্য মুয়াজ্জিনদের নিয়োজিত করেন।”
আল ওয়াসাইল: ১০
ইমাম ইবনু আল্লান রহ. (১০৫৭ হি.) বলেন,
«فلمّا ولِيَ صلاح الدّين بن أيّوب وحمل النّاس على اعتقاد مذهب الأشعريّ أمر المؤذّنين أن يعلنوا وقت التّسبيح بذكر العقيدة الأشعريّة التي تُعرف بالْمُرْشِدِيَّةِ فواظبوا على ذكرِها كلّ ليلة»
“যখন সালাহউদ্দীন বিন আইয়ুব ক্ষমতা গ্রহণ করলেন এবং মানুষকে আশআরি মাযহাবের আকীদা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করলেন, তখন তিনি মুয়াযযিনদের নির্দেশ দিলেন যে, তারা যেন তাসবীহের সময় 'আল-মুরশিদিয়্যাহ' নামে পরিচিত আশআরি আকীদাটি ঘোষণা করেন। ফলে তারা প্রতি রাতেই তা নিয়মিত পাঠ করতে লাগলেন।”
ইবুন আল্লান, আল ফুতূহাতুর রাব্বানিয়্যাহ: ২/১১৩
১.৩. আল আকীদাতুস সালাহিয়্যাহ:
আশআরী আকীদার প্রতি তার এই বিশেষ অনুরাগের ফলে তৎকালীন প্রসিদ্ধ আলেম, মুহাম্মাদ বিন হিবাতুল্লাহ আল মাক্কী রহ.[৩] আশআরী আকীদার ওপর ৫০০ লাইনের অধিক দীর্ঘ একটি কবিতা লিখেন। এবং তা সুলতানকে হাদীয়া দেন। সুলতান তা গ্রহণ করেন এবং মক্তবগুলোতে এটি পাঠদানের নির্দেশ দেন। ঐতিহাসিক এই কবিতাটি সুলতানের দিকে নিসবত করে ‘আল আকীদাতুস সালাহায়্যিাহ’ নামে প্রসিদ্ধ হয়ে আছে।
আল আকীদাতুস সালাহিয়্যাহর লেখক মুহাম্মাদ বিন হিবাতুল্লাহ মাক্কী রহ. তাঁর উক্ত রিসালার শুরুতে বলেন,
نظمتها للملك الأمين الناصر الغازي صلاح الدين
“এটি এই কবিতাটি রচনা করেছি গাযী সালাহুদ্দীনের জন্য।”
আল আকীদাতুস সালাহিয়্যাহ: ২০১ নং শ্লোক।
২. ইমামগণের স্বিকৃতী
ইমাম মাক্বরীযি রহ. (৮৪৫ হি.) বলেন,
كان من رأيه ورأي السلطان اعتقاد مذهب الشيخ أبي الحسن الأشعريّ في الأصول
“তার (কাযী সদরুদ্দীন শাফেয়ী) এবং সুলতান (আইউবী) উসূলের দিক থেকে (তথা আকীদায়) আবুল হাসান আশআরী এর মাযহাবের ওপর ছিলেন।”
আল মাওয়ায়েজ ওয়াল ই’তিবার: ৪/৫১
৩. সালাফী উলামাদের স্বিকৃতী
আব্দুল আযীয আত ত্বরীফি। তিনি বলেন,
عقيدته أشعرية، مما لا ريب في ذلك.
“তাঁর আকীদা আশআরী আকীদা। এতে কোনো সন্দেহ নেই।”
ইউটিউব বক্তব্য: https://www.youtube.com/watch?v=iEW1K3HrLsQ
উসমান আল খামীস। তিনি বলেন,
كان يتبنى طريقة الأشاعرة وكان يدعو إليها ويأمر الناس بها، ويظن أن هذا هو الحق.
“তিনি আশআরী ধারাকে ধারণ করতেন। মানুষদেরকে এদিকেই ডাকতেন ও নির্দেশনা দিতেন। এটাকেই তিনি সঠিক মনে করতেন।”
ইউটিউব বক্তব্য: https://www.facebook.com/watch/?v=1867116667203579
মূলত সালাহুদ্দীন আইউবী রহ. এর আশআরী হওয়া একটি ঐতিহাসিক সুপ্রসিদ্ধ বিষয়। তাই ড. বাশশার আউয়াদ মা’রুফ হাফি. বলেন,
وكان صلاح الدين أشعريا متعصبًا كما هو معروف من سيرته
“আর সালাহুদ্দীন ছিলেন কট্রর আশআরী। যেমনটা তার জীবনীতে প্রসিদ্ধ।”
আয যাহাবী ওয়া কিতাবুহু সিয়ারু আ’লামিন নুবালা; সিয়ারু আ’লামিন নুবালা: ১/১৩। টিকা নং- ৩
দুটি প্রশ্ন ও উত্তর
১. তিনি কি পরিবেশগত কারণে এই আকীদা গ্রহণে বাধ্য ছিলেন?
এখন কেউ হয়ত বলতে পারে, আইউবী রহ. তার চারপাশের পরিবেশগত কারণে আশআরী মাযহাব দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। এবং এই আকীদাকে ধারণ করতে বাধ্য ছিলেন।
মূলত এটি যে একটি অমূলক ধারণা, তা তৎকালীন ইতিহাস ও সুলতানের ব্যক্তিত্ব দ্বারাই স্পষ্ট হয়ে যায়। কারণ আউয়ূবী রহ. এর আগে মিসরে আশআরীগণ ছিলেন না, বরং ফাতেমীরা ছিল। ফলে সেখানে এসে আশআরী আকীদা ধারণ করতে হবে, এমন কোনো চাপ ছিল না। তাছাড়া সুলতান এমন কোনো ব্যক্তি ছিলেন না, যিনি চাপে পড়ে বা আন্দাযে কোনো আকীদা গ্রহণ করবেন। বরং তিনি জেনেশুনে দলীলের ভিত্তিতেই আশআরী আকীদাকে লালন করেছেন।
তাই কাযী বাহাউদ্দীন ইবনু শাদ্দাদ রহ. বলেন,
قد أخذ عقيدته على الدليل بواسطة البحث مع مشايخ أهل العلم وأكابر الفقهاء
“তিনি তার আকীদা গ্রহণ করেছেন দলীলের ভিত্তিতে। বড় বড় আহলুল ইলম ও বিদগ্ধ ফুকাহাদের সাথে পর্যালোচনা করে।”
কাযী বাহাউদ্দীন ইবনু শাদ্দাদ, আন নাওয়াদিরুস সুলতানিয়্যাহ: ৩৩
২. আইউবী রহ. কি মানুষদেরকে আশআরী আকীদা গ্রহণে বাধ্য করতেন?
উপরের আলোচনা থেকে বুঝা গেলো, আইউবী রহ. নিজে আশআরী ছিলেন। এবং আশআরী আকীদা প্রচার করার চেষ্টা করতেন। কিন্তু তিনি মানুষদেরকে এই আকীদা গ্রহণে বাধ্য করতেন, বা অন্য আকীদার লোকদের সাথে কঠোর আচরণ করতেন- এমন কোনো ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই। ফলে মিসরে আশআরী আকীদার প্রচার অস্ত্রের মাধ্যমে হয়েছে, বা রাষ্ট্রের বাধ্যবাধকতার কারণে হয়েছে- এমন কোনো দাবি করার সুযোগ নেই। তাই ইমাম কাউসারী রহ. বলেন,
«وكان السلطان صلاح الدين الأيوبي يَرْعَى خاطِرَهُم لكونهم مهاجرين زهاداً، وَيَتَغاضَى عن معتقدهم، ولم يكن يحْمِلُ الناس على المذهب الأشعري كما ظُنَّ، بل كان الواعظ ابنُ نجية الحنبليُّ المشهورُ مقرباً عنده، ومجافاته القاسية مع الإمام الشهاب الطوسي القائم بنصرة الأشعري بمصر تجري على مِنْظَرٍ ومَسْمَعٍ، ويسكتُ عن ذلك، بل كاد آلَهُ أن ينحازوا إليهم في المعتقد لولا وقفةُ الإمام عز الدين بن عبد السلام في هذه المسألة وقفةُ عالم يقومُ بواجبه، فتضاءلت أصواتهم، وَانْجَمَعوا في دُيُورهم، واقتصروا على الروايات.
فيظهرُ من جميع ذلك أن انتشار المذهبِ الأشعري في البلاد بسلطان العلم لا بشوكة السلاطين، وما وَقَع ببغداد وغيرها من بعض التشدُّد على الحشوية بين حينٍ وَآخَر: فلإخلالهم الأمن وإحداثهم القلاقل.»
“সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবী তাদের (হাম্বলীদের) মন রক্ষা করে চলতেন, কারণ তারা ছিলেন দূরদেশ থেকে আগমনকারী ও দুনিয়াবিরাগী। এবং তিনি তাদের আকীদা-বিশ্বাসকে উপেক্ষা করতেন।[৪] তিনি মানুষকে আশআরি মাযহাবের অনুসারী হতে বাধ্য করতেন না, যেমনটি ধারণা করা হয়;[৫] বরং প্রখ্যাত হাম্বলী ওয়ায়েজ (বক্তা) ইবনে নাজ্জিয়াহ তাঁর নিকট অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। মিশরে আশআরি মাযহাবের পক্ষে অবস্থানকারী ইমাম শিহাব আত-তুসীর সাথে এই হাম্বলীর কঠোর আচরণ তার দেখা ও শোনার মধ্যেই ঘটত, অথচ তিনি এ বিষয়ে নীরব থাকতেন।[৬] এমনকি তাঁর পরবর্তী প্রজন্ম আকীদার ক্ষেত্রে তাদের (হাম্বলীদের) দিকে ঝুঁকে পড়ার উপক্রম হয়েছিল, যদি না এ বিষয়ে ইমাম ইজ্জুদ্দীন ইবনে আবদুস সালাম একজন দায়িত্বশীল আলেমের মতো দৃঢ় অবস্থান নিতেন। ফলে তাদের কণ্ঠস্বর স্তিমিত হয়ে আসে, তারা নিজেদের ঘরে গুটিয়ে যায় এবং কেবল বর্ণনা বা রেওয়ায়েতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
এসব বিষয় থেকে স্পষ্ট হয় যে, দেশগুলোতে আশআরি মাযহাবের বিস্তার ঘটেছে জ্ঞানের শক্তির মাধ্যমে, শাসকদের ক্ষমতার জোরে নয়। আর বাগদাদ ও অন্যান্য স্থানে মাঝেমধ্যে হাশাবিয়াদের ওপর যে কিছু কড়াকড়ি বা কঠোরতা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ছিল মূলত তাদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কারণে।”
মাকালাতুল কাউসারী: ৪৭-৪৮
এখানে কাউসারী রহ. অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ভাষায় পুরো বিষয়টি তুলে ধরেছেন। দেখিয়েছেন, সুলতান নিজে আশআরী হলেও, অন্য মানুষদেরকে তিনি আশআরী আকীদা গ্রহণ করতে বাধ্য করতেন না। বরং আশআরীদেরকে বেদাতী বলে, এমন বহু মানুষকেও তিনি আশ্রয় দিতেন, সমাদর করতেন।
বি.দ্র. কিছু সালাফী ভাই কাউসারী রহ. এর এই ইবারাত দিয়ে বলে যে, এখান থেকে বুঝা যায়, কাউসারীর মতে সুলতান আইউবী আশআরী ছিলেন না! অথচ এখানে কাউসারী একবারের জন্যও এমনকিছু বলেননি। শুধু এতটুকু বলেছেন যে, তিনি আশআরী বিরোধী অনেককেই কাছে টেনেছেন এবং সমাদর করেছেন। এবং তার এই সমাদরের ফলে তার পরবর্তী প্রজন্ম তাদের বাতিল আকীদা দ্বারা প্রভাবিত হতে যাচ্ছিল। কিন্তু তিনি নিজে তাদের আকীদা ধারণ করে ফেলেছিলেন, এমন কোনো কথা কাউসারী রহ. এখানে বলেননি।
[১] তিনি ছিলেন আইউবী রহ. এর বন্ধু, একান্ত সাথী ও উপদেষ্টা। ফলে তার সাক্ষ্য মূলত প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য।
وحملوا في أيام دولتهم كافة الناس على التزامه
“আইউবী শাসকরা তাদের শাসনামলে সকল মানুষকে আশআরী আকীদা ধারণ করতে বাধ্য করেছিলেন।” আল মাওয়ায়িজ: ৪/১৯২। অন্যত্র তিনি বলেন, فحمل الناس إلى اليوم على اعتقاده، حتى يكفّر من خالفه “তার (আইউবীর) আমলে মানুষদেরকে আশআরী আকীদা ধারণ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। এমনকি তাঁর এই আকীদা বিরোধীদেরকে তাকফীর করা হতো।” আল মাওয়াইজ: ৪/৫১। তো কাউসারী রহ. এখানে এসব অপ্রমাণিত বাড়াবাড়িমূলক মন্তব্যের প্রতিবাদ করেছেন। এবং দেখিয়েছেন, কীভাবে আইউবী হাম্বলীদেরকেও আশ্রয় দিয়েছেন, সমাদর করেছেন।
[৬] অর্থাৎ তিনি মানুষদেরকে আশআরী আকীদা ধারণ করতে বাধ্য করবেন তো দূরের কথা, বরং হাম্বলীদের কতৃক কোনো আশআরী যুলুমের শিকার হলেও তিনি তাদেরকে প্রতিহত করতেন না। এমনকি বহু হাম্বলী তার একান্ত ব্যক্তিতেও পরিণত হয়েছিল।